কোচবিহারে বাড়িতে ঢুকে মা এবং মেয়েকে ধারালো অস্ত্রের কোপ
দি নিউজ লায়ন ; কোচবিহারে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। বাড়িতে ঢুকে মা এবং মেয়েকে ধারালো অস্ত্রের কোপ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু মেয়ের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা। সোমবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে বক্সীরহাট থানার অন্তর্গত বারো কোদালী এক নম্বর জিপির তাতিপাড়া এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বকসিরহাট থানার পুলিশ এবং আহতদের উদ্ধার করে তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা অঙ্কিতা সরকারকে (১৯) মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মা সান্তনা সরকার কে কোচবিহারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর কোচবিহার মহারাজা জিতেন্দ্রর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে বলে সূত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। অঙ্কিতা সরকারের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। খোঁজ নেই নিহত অঙ্কিতা সরকারের বাবার। কে বা কারা ঘটনাটি করেছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তবে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,রাত্রি দশটা নাগাদ আচমকাই চিৎকার-চেঁচামেচিতে তারা বাইরে এসে দেখেন বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার আসছে। তারা ভেতরে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে। খবর পাঠানো হয় থানায়। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর আগে পকসো আইনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করেন অঙ্কিতার মা সান্ত্বনা।
অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তবে তিনি কোথায় রয়েছেন তা কেউ জানে না। গোটা ঘটনার পেছনে ওই ব্যক্তির হাত থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা। প্রতিহিংসাবশত এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিবেশীদের একাংশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অঙ্কিতার বাবার খোঁজে তল্লাশি চলছে। গোটা ঘটনায় তার কোনো যোগ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাশাপাশি পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলবেন তদন্তকারীরা। যে মামলা নিয়ে প্রতিবেশীরা অভিযোগ করছেন সেই মামলার বর্তমান অবস্থা কি, কার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, কি অভিযোগ ছিল এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সব মিলিয়ে অত্যন্ত জনবহুল এলাকায় বাড়িতে ঢুকে মা মেয়ের উপর যেভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো দুষ্কৃতীরা যাতে একজনের মৃত্যু হল সেই ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্কিত এলাকাবাসী। তারা চান দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

Post a Comment